হেমন্তের শেষভাগে প্রকৃতি যেন ধীরে ধীরে শীতকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) ভোরে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ জনপদে দেখা মিলেছে শীতের আগমনী বার্তার। ঘন কুয়াশার সাদা চাদরে ঢেকে যায় মাঠ-ঘাট, গাছপালা ও গ্রামের আঁকাবাঁকা সড়ক।
সূর্যের আলো ফোটার আগেই কুয়াশা নেমে আসে চারদিকে। দূরের গাছগুলোকে মনে হচ্ছিল সাদা আবরণের আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা কোনো নিঃশব্দ প্রহরী। গ্রামের সরু রাস্তা ধরে চলা মানুষ ও যানবাহনের চলাচলও হয়ে পড়ে কিছুটা ধীরগতির। কয়েক গজ দূরের দৃশ্যও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে ভোর ও রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে কুয়াশার প্রকোপ। ভোরবেলা খোলা মাঠে হাঁটতে বের হওয়া মানুষজনের শরীরে লাগছে হালকা শীতের স্পর্শ। অনেকেই সকালে গায়ে জড়িয়ে নিচ্ছেন পাতলা চাদর বা গরম কাপড়।
কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠগুলোও ছিল কুয়াশার আবরণে ঢাকা। শিশিরভেজা ঘাস আর ধানক্ষেতের ওপর জমে থাকা কুয়াশা যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সৌন্দর্যের জন্ম দিয়েছে। শীতের আগমনের এই দৃশ্য একদিকে যেমন গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপকে স্মরণ করিয়ে দেয়, অন্যদিকে নতুন ঋতুর আগমনের বার্তাও পৌঁছে দেয় মানুষের কাছে।
স্থানীয়দের ধারণা, আগামী দিনগুলোতে উত্তরাঞ্চলে কুয়াশার পরিমাণ আরও বাড়বে এবং শীত ধীরে ধীরে তার পূর্ণ রূপে হাজির হবে। তবে ঋতু পরিবর্তনের এই মনোমুগ্ধকর সকাল প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এনে দিয়েছে ভিন্ন এক অনুভূতি।
জাহিদ হোসাইন
নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
মোবাইল: ০১৩২৯০৬৭১১২
তারিখ: ৫ অক্টোবর ২০২৬