গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন আতিকুর রহমান আতিক। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান তিনি।
গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে আতিকুর রহমান আতিক এসব কথা বলেন। তিনি জানান, প্রায় ১৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। এ সময়ে কারাবরণ, রিমান্ড ও নির্যাতনের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার কথাও জানান তিনি। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের অধিকার ও সংগঠনের প্রতি দায়িত্ব থেকে সরে যাননি বলে দাবি করেন।
আতিকুর রহমান আতিকের রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে রয়েছে গাইবান্ধা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও কাজ করার কথা জানান তিনি। বিশেষ করে এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ, নদীভাঙন, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার সংকটকে গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
আতিকুর রহমান বলেন, একটি ইউনিয়নের উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট বা অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের নিরাপত্তা, মানসম্মত শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা, কর্মসংস্থানের সুযোগ, মাদকমুক্ত পরিবেশ এবং প্রান্তিক মানুষের ন্যায্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি বলেন, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের অন্যতম বড় সমস্যা নদীভাঙন। চরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা নদীভাঙনের কারণে বারবার হুমকির মুখে পড়ে। তাই নদীভাঙন প্রতিরোধ ও নদীশাসনের কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও খেলাধুলার সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের মানুষের মতামত ও প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানান আতিকুর রহমান। দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে কাজ করাকে তিনি অগ্রাধিকার দিতে চান।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে নদীভাঙন ও যোগাযোগ সমস্যার সমাধান। পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, নিরাপদ পরিবেশ এবং চরাঞ্চলের মানুষের মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।
আতিকুর রহমান আতিক বলেন, মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে মানুষের মতামত ও প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করব।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে আতিকুর রহমান আতিকও তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন প্রত্যাশা করছেন। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কাকে নেতৃত্বের জন্য বেছে নেবেন, তা নির্ধারিত হবে নির্বাচনের মাধ্যমে।