বাংলাদেশ , সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
পীরগঞ্জপ বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন। দোয়ারাবাজারে ভারতীয় মদসহ গ্রেফতার ১ ‎ বিরামপুরে জাতীয় যুব দিবসে র‍্যালী, আলোচনা সভা ও যুব ঋণের চেক বিতরণ ‎ দিনাজপুরের বিরামপুরে উপজেলায় দিনাজপুর মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত জেলা কমিটিকে সংবর্ধনা রুহিয়া টাঙ্গন ব্যারেজে মৎস্য উৎসবের উদ্বোধন। চার বছর ধরে স্ত্রী-সন্তানের খোঁজ নেন না স্বামী, বৃদ্ধ পালক পিতার কাঁধে তিনজনের ভরণপোষণের দায়িত্ব। সাদুল্লাপুরে রসুলপুর ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত ​গাইবান্ধায় ‘রাইট টক বাংলাদেশ’র আংশিক কমিটি অনুমোদন: সভাপতি ছামিউল,সাধারণ সম্পাদক আকরাম ঠাকূরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন বিজয়। ​সাঘাটায় সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থা (SUS)-এর ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠত
সর্বাধিক পঠিত
পীরগঞ্জপ বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন। দোয়ারাবাজারে ভারতীয় মদসহ গ্রেফতার ১ ‎ বিরামপুরে জাতীয় যুব দিবসে র‍্যালী, আলোচনা সভা ও যুব ঋণের চেক বিতরণ ‎ দিনাজপুরের বিরামপুরে উপজেলায় দিনাজপুর মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত জেলা কমিটিকে সংবর্ধনা রুহিয়া টাঙ্গন ব্যারেজে মৎস্য উৎসবের উদ্বোধন। চার বছর ধরে স্ত্রী-সন্তানের খোঁজ নেন না স্বামী, বৃদ্ধ পালক পিতার কাঁধে তিনজনের ভরণপোষণের দায়িত্ব। সাদুল্লাপুরে রসুলপুর ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত ​গাইবান্ধায় ‘রাইট টক বাংলাদেশ’র আংশিক কমিটি অনুমোদন: সভাপতি ছামিউল,সাধারণ সম্পাদক আকরাম ঠাকূরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন বিজয়। ​সাঘাটায় সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থা (SUS)-এর ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠত

চার বছর ধরে স্ত্রী-সন্তানের খোঁজ নেন না স্বামী, বৃদ্ধ পালক পিতার কাঁধে তিনজনের ভরণপোষণের দায়িত্ব।

এম.এ. শুকুর সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

এম.এ. শুকুর সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দীর্ঘ চার বছর ধরে তাঁদের কোনো খোঁজখবর না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাসুম মিয়া (৩৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পেয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে অসহায় জীবনযাপন করছেন স্ত্রী মুজেরা বেগম (২৫) বর্তমানে তাঁদের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করছেন বৃদ্ধ পালক পিতা দুদু মিয়া (৬০)। তবে সীমিত আয়ে নিজের কষ্টার্জিত উপার্জন দিয়ে পালক মেয়ে ও তাঁর দুই সন্তানের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী মুজেরা বেগমের বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের ০৯ নং ওয়ার্ড বড়বন্দ গ্রামে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত স্বামী মাসুম মিয়ার বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলার বাঘময়না ইউনিয়নের নোয়াগাঁও নয়াপাড়া গ্রামে।
ভুক্তভোগী ও তাঁর স্বজনদের অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে মাসুম মিয়া তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে স্ত্রী ও সন্তানদের কোনো খোঁজখবর নেন না তিনি। সংসারের দায়িত্ব পালন কিংবা সন্তানদের ভরণপোষণের জন্যও নিয়মিত কোনো সহযোগিতা করেন না বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।
জানা যায়, মুজেরা বেগম দুদু মিয়ার পালক মেয়ে। নিজের সন্তান না হলেও তাঁকে নিজের মেয়ের মতোই লালন-পালন করে আসছেন দুদু মিয়া। নিজে কষ্ট করে উপার্জন করে তাঁদের ভরণপোষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু বয়সের ভার ও সীমিত আয়ের কারণে একা তিনজনের দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিয়ের প্রধান সাক্ষী (উকিল শশুর) আলাল মিয়া (৪৫) জানান, মুজেরা বেগম ও মাসুম মিয়ার বিয়ের সময় তিনি প্রধান সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের সময়ের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন।
অন্যদিকে ভুক্তভোগীর মেয়ের মামা সামাদ মিয়া (৫০) অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের সময় জামাতাকে যৌতুক হিসেবে নগদ ৪৫ হাজার টাকা ও একটি গরু দেওয়া হয়েছিল। এরপরও তাঁর ভাগনিকে টাকা-পয়সার জন্য চাপ দেওয়া এবং মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী ও তাঁর স্বজনেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতির কারণে মুজেরা বেগম ও তাঁর দুই সন্তান অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে সন্তানদের খাবার, পোশাক, চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। বৃদ্ধ দুদু মিয়ার পক্ষেও একা এই দায়িত্ব বহন করা ক্রমেই অসম্ভব হয়ে উঠছে।
এ অবস্থায় স্ত্রী ও দুই সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

Tag :

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
১৯ সময় দৃশ্য

চার বছর ধরে স্ত্রী-সন্তানের খোঁজ নেন না স্বামী, বৃদ্ধ পালক পিতার কাঁধে তিনজনের ভরণপোষণের দায়িত্ব।

আপডেটের সময় : ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

এম.এ. শুকুর সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দীর্ঘ চার বছর ধরে তাঁদের কোনো খোঁজখবর না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাসুম মিয়া (৩৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পেয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে অসহায় জীবনযাপন করছেন স্ত্রী মুজেরা বেগম (২৫) বর্তমানে তাঁদের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করছেন বৃদ্ধ পালক পিতা দুদু মিয়া (৬০)। তবে সীমিত আয়ে নিজের কষ্টার্জিত উপার্জন দিয়ে পালক মেয়ে ও তাঁর দুই সন্তানের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী মুজেরা বেগমের বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের ০৯ নং ওয়ার্ড বড়বন্দ গ্রামে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত স্বামী মাসুম মিয়ার বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলার বাঘময়না ইউনিয়নের নোয়াগাঁও নয়াপাড়া গ্রামে।
ভুক্তভোগী ও তাঁর স্বজনদের অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে মাসুম মিয়া তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে স্ত্রী ও সন্তানদের কোনো খোঁজখবর নেন না তিনি। সংসারের দায়িত্ব পালন কিংবা সন্তানদের ভরণপোষণের জন্যও নিয়মিত কোনো সহযোগিতা করেন না বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।
জানা যায়, মুজেরা বেগম দুদু মিয়ার পালক মেয়ে। নিজের সন্তান না হলেও তাঁকে নিজের মেয়ের মতোই লালন-পালন করে আসছেন দুদু মিয়া। নিজে কষ্ট করে উপার্জন করে তাঁদের ভরণপোষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু বয়সের ভার ও সীমিত আয়ের কারণে একা তিনজনের দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিয়ের প্রধান সাক্ষী (উকিল শশুর) আলাল মিয়া (৪৫) জানান, মুজেরা বেগম ও মাসুম মিয়ার বিয়ের সময় তিনি প্রধান সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের সময়ের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন।
অন্যদিকে ভুক্তভোগীর মেয়ের মামা সামাদ মিয়া (৫০) অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের সময় জামাতাকে যৌতুক হিসেবে নগদ ৪৫ হাজার টাকা ও একটি গরু দেওয়া হয়েছিল। এরপরও তাঁর ভাগনিকে টাকা-পয়সার জন্য চাপ দেওয়া এবং মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী ও তাঁর স্বজনেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতির কারণে মুজেরা বেগম ও তাঁর দুই সন্তান অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে সন্তানদের খাবার, পোশাক, চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। বৃদ্ধ দুদু মিয়ার পক্ষেও একা এই দায়িত্ব বহন করা ক্রমেই অসম্ভব হয়ে উঠছে।
এ অবস্থায় স্ত্রী ও দুই সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।